Boarding Lounge

“Excuse me!”

কলকাতা airport-এর Boarding Lounge এ বসে শ্রেয়সী একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল | বেশ কয়েকদিন খুব ধকল গেছে | খুড়তুত বোনের বিয়ের উপলক্ষে Bangalore থেকে এসেছিল সে | বিয়েটা খুব আনন্দে কেটেছে, কিন্তু ঘুম sufficient হয়নি | আজ ভোরের flight ছিল | রাত শেষ হতে না হতেই বেরিয়ে পড়তে হয়েছে তাকে | Technical problem এর জণ্য flight এক ঘন্টা দেরিতে ছাড়ছে | তাই সে চোখ বুঝে বসে অপেক্ষা করছিল | কখন যে তন্দ্রা এসে গেছে বুঝতে পারে নি | একটু বিরক্ত হয়েই সে চোখ খুলল |

“Excuse me! Are you Miss Shreyosi Roy?”

কিছুক্ষণের জণ্য সে আগুন্তুকের দিকে তাকিয়ে রইল – তারপরই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল –
শ্রেয়সী – “আরে গৌতম না? What a pleasant surprise!”
গৌতম বলল “যাক ভুল করি নি | একটু doubt হচ্ছিল | তাই জিগ্যেস করলাম | তুই বোধয় ঘুমিয়ে পড়েছিলি | Disturb করলাম?”
শ্রেয়সী – “একদম না | ভালো করেছিস | আমি তো এখনো ভাবতেই পারছিনা তোর সাথে কথা বলছি | কলেজের পর তোর সাথে প্রথম দেখা হলো |”
গৌতম – “হ্যা | প্রায় দশ বছর বাদে |”
শ্রেয়সী – “তুই সেই যে B.Sc. পরীক্ষার শেষে বাড়ি যাবি বলে উধাও হয়ে গেলি, তারপর তোর trace পাওয়া গেল না | result এর দিনও তোর দেখা পাওয়া গেল না |”
গৌতম – “জানি | আসলে তখন একটার পর একটা দুর্ঘটনা এমনভাবে ঘটে যাচ্ছিল যে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম |”
শ্রেয়সী – “সে কী রে! কী হয়েছিল?”
গৌতম – “প্রথমে মা তারপর বাবা দুজনেই কিছুদিনের মধ্যে মারা গেলেন | শোক ভুলতে না ভুলতেই কাকারা সম্পত্তি নিয়ে বিশাল ঝামেলা শুরু করে দিল | সম্পর্কগুলো কেমন যেন অদ্ভুতভাবে change হয়ে যাচ্ছিল | জীবনের মানেটাই বদলে গিয়েছিল |”
শ্রেয়সী – “কী বলছিস! তুই এইরকম পরিস্থিতিতে ছিলি, একবার জানাবার প্রয়োজনও মণে করিস নি!”
গৌতম – “এখনকার মতো সবার কাছে mobile phone থাকলে জানাতাম | কিন্তু তখন mentally এতটাই low ছিলাম যে তোদের জানিয়ে বিব্রত করতে চাই নি | আর চাইলেও জানানো সম্ভব ছিল না | তুই কলকাতায় ছিলি না আর অর্নবও চাকরি নিয়ে আসাম চলে গিয়েছিল | আর কারুর telephone number আমার কাছে ছিল না |”
শ্রেয়সী – “হ্যা, তখন Mumbai shift করে গিয়েছিলাম | বাবা তো আগেই ওখানে transfer হয়ে গিয়েছিল | পরীক্ষার পর খুব জোরাজুরি করলেন ওখান থেকে further study করার জণ্য | মায়েরও তাই ইচ্ছে ছিল |”
গৌতম – “ছাড় পুরানো কথা | সবই পরিস্থিতি | তা এখন কী করছিস? Mumbai তেই আছিস?”
শ্রেয়সী – “না | আমি এখন Bangalore এ থাকি | ওখানে একটা school এ পড়াই | তুই?”
গৌতম – “আমি freelancer | আপাতত Delhi তে আছি | যখন যেমন কাজ পাই করি |”
একটু হেসে গৌতম বলল “আমি ভাবতেই পারছিনা তুই নাকি school teacher | তোর থেকে ভীতু বোধহয় college -এ আর কেউ ছিল না | তা তোর কথা class এ কেউ শোনে?”
শ্রেয়সী – “School এ খোঁজ নিয়ে দেখ, strict teacher হিসেবে আমার বদনাম আছে | দশ বছর আগের আমি আর এখনকার আমি-র মধ্যে অনেক তফাত |”
গৌতম – “তা ঠিক | মোটা হয়েছিস | দিদিমনি মার্কা একটা চশমাও হয়েছে দেখছি |”
শ্রেয়সী – “তবে তুই একদম বদলাস নি | যেই রকমটা ছিলি সেই রকমটাই রয়েছিস |”
গৌতম – “তারপর, বিয়ে করেছিস?”
শ্রেয়সী – “হ্যা | বিয়ে ছয় বছর হয়ে গেছে |”
গৌতম – “Great ! তা তোর Mr. X কেমন আছে?”
শ্রেয়সী – “Mr. X ! তোর এখনো মণে আছে সেই কথা?”
গৌতম – “মণে থাকবে না | তোকে সবাই যা খেপাতো ঐ ভদ্রলোককে নিয়ে | তবে ওকে নিয়ে কবিতাগুলো অসাধারণ লিখেছিলি | আমি copy করে রেখেছিলাম লেখাগুলো | এখনো থাকে আমার সঙ্গে |”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্রেয়সী বলল “না রে, ঐ chapter টার আর কিছু হল না |”
গৌতম – “ও, sorry to hear that, ঐরকম তো জীবনে হয়েই থাকে | তা husband কী করে ? ছেলেমেয়ে হয়েছে?”
শ্রেয়সী – “ও Software engineer. ওখানে একটা private company তে চাকরি করে | আর চার বছরের এক দুরন্ত মেয়ে আছে |”
গৌতম – “Marvelous , তা ওরা কোথায়? দেখছি না তো?”
শ্রেয়সী – “ওরা আসে নি | cousin এর বিয়ে ছিল – ও ছুটি পায় নি | শাশুড়িমা মেয়েকে এই গরমে পাঠালো না |”
গৌতম – “তা ভালোই করেছেন | এখানে যা গরম তাতে ওর ভীষণ কষ্ট হতো | Bangalore এর weather তো খুব ভালো |”
শ্রেয়সী – “হ্যা | ওখানে এতটা গরম পড়ে না | pleasant weather | তা তোর খবর বল | বিয়ে করেছিস?”
গৌতম – “না |”
শ্রেয়সী – “এখনো বিয়ে করিস নি কেন? Girl friend আছে নিশ্চই?”
গৌতম – “না না | সে রকম কিছুই নেই |”
শ্রেয়সী – “তাহলে সারাজীবন bachelor থাকার plan করছিস নাকি?”
গৌতম – “সেইরকমই ইচ্ছে আছে | বিয়ে করব না |”
শ্রেয়সী – “হমম | ডাল মে কুচ কলা হ্যায় | প্রেম ঘটিত কিছু ব্যাপার মণে হচ্ছে | খুলে বল |”
গৌতম – “আরে তেমন কিছু না | একজনকে ভালো লাগতো, তারপর সেইরকম ভাবে আর কাউকে ভালো লাগে নি |”
শ্রেয়সী – “ও, তা কাজের সুত্রে কাউকে পছন্দ হয়েছিল?”
গৌতম – “না | কাজের সুত্রে নয় | তার আগে |”
শ্রেয়সী – “College এর সময়?”
গৌতম সম্মতিসূচক একটু হাসলো |
শ্রেয়সী – “কী সাংঘাতিক ! সবাই আমায় খেপাতিস আর তুই নিজে ডুবে ডুবে জল খাচ্ছিলি | আমরা এক ফোঁটা টের পাই নি | College মানে তো আমি নিশ্চই চিনি |”
গৌতম হাসতে থাকলো |
শ্রেয়সী – “তুই হাসি থামা | তার নাম বল |”
গৌতম – “ছাড় না পুরোনো কথা ঘেঁটে কী লাভ?”
শ্রেয়সী – “তুই থাম | দাঁড়া, আমি guess করি – শর্মিষ্ঠা?”
গৌতম – “না |”
শ্রেয়সী – “তাহলে অনন্যা ?”
গৌতম – “না |”
শ্রেয়সী – “ঋতু?”
গৌতম – “না | কাটা না |”
শ্রেয়সী – “চুপ কর | তাহলে কী স্নিগ্ধা, রত্না, নিশা বা অপলার মধ্যে কেউ?”
গৌতম – “না | ওদের কেউ না?”
শ্রেয়সী – “তাহলে কে? আমাদের senior বা junior কেউ?”
গৌতম – “না |”
শ্রেয়সী – “আর তো কাউকে মণে পড়ছে না | তুই নামটা বল |”
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌতম বলল – “আর একজনই তো বাকি রইলো |”
“আর একজন -” কথাটা অস্ফুটভাবে উচ্চারণ করেই শ্রেয়সী স্তব্ধ হয়ে গেল | স্তম্ভিত হয়ে সে গৌতমের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষনের জণ্য, তারপর চোখ নামিয়ে নিল মেঝের দিকে |
নিস্তব্ধ অবস্থায় কেটে গেল কিছুটা সময় | Departure announcement তাদের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করলো | শ্রেয়সী গৌতমের দিকে না তাকিয়েই বলল, “তুই তো এখানে আছিস, luggage গুলোর একটু খেয়াল রাখ | আমি rest room থেকে আসছি |”
সে দ্রুতপদে toilet এর দিকে প্রস্থান করলো | গৌতম খুবই অস্বস্থিতে পড়ে গেল | সে ভাবতে পারে নি শ্রেয়সী এইরকম react করবে | তাকে সে কলেজের সময় থেকে ভালবাসে | কিন্তু বলতে পারে নি | এতদিন বাদে দেখা হবার পর আজ তা জানানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না | সে এখন বিবাহিত | এই কথার তো আজ কোনো মানে নেই | নিজেকে দোষারোপ করতে থাকলো সে |

অনেকক্ষণ হয়ে গেছে | শ্রেয়সী এখনো ফেরে নি | Boarding এর লাইনটা ক্রমশ ছোট হতে শুরু করেছে | মাত্র সাত-আট জন বাকি | গৌতম চিন্তায় পড়ে গেল | শ্রেয়সী এতই বা দেরী করছে কেন? তার কী একটু এগিয়ে দেখা উচিত? কিন্তু bag গুলোর কী হবে?
বেশিক্ষণ তাকে ভাবতে হল না | শ্রেয়সী ফিরে এলো | তাড়াহুড়ো করে bag থেকে boarding pass টা বার করতে করতে আপনমনে বলল “উঃ, বড্ড দেরী হয়ে গেল |”
vanity bag টা কাঁধে নিয়ে আর handbag এর trolley টা খুলে হাতে নিয়ে গৌতমের দিকে ফিরে বলল – “আর কথা হল না | পারলে contact এ থাকিস | facebook বা orkut এ আমার নাম দিয়ে search করলেই পেয়ে যাবি | ছবি দেওয়া আছে তাই চিনতে অসুবিধা হবে না | চল, আজ আসি |”
শ্রেয়সী এগিয়ে গেল | কিন্তু দুইপা পরেই দাড়িয়ে পড়ল | গৌতমের দিকে ফিরে অভিমানীর সুরে বলল – “আগে কথাটা কেন বলতে পারলি না গৌতম | আমার Mr. X যে তুই ছিলি বুদ্ধু |”
শ্রেয়সী দ্রুতপদে boarding gate এর দিকে এগিয়ে গেল |

Advertisements

14 thoughts on “Boarding Lounge

  1. AMARO EKI MOT…PLOT TA COMMON.
    DIALOGUE DELIVERY TA KE KAKE KORCHE , SETA KOKHONO KOKHONO ULLEKH KORA PROYOJON, NAHOLE KHEI HARIYE JACCHE.

    KINTU PRATHAM PROYAS HISEBE BESH VALOI LAAGLO…

    JOY GURU..ENJOY GURU..

  2. golper prothom duto line , sesh charte line aar maaj-khaner tinte line porlei puro golpota pora hoye jai,

    tobe ami puro golpo ta porechi lekhata bhalo.

    tobe boddo common fact,

    • jekono text dekhle -i aage tar summary banano-r obhhyes ta ki maye ke porano-r jonnyo toiri korchis? ai para tar samne-r 2 line majhkhan er 4 te sobdo aar last line ta important etc….. 😉

  3. chena plot hole o prothom lekha hiseb e darun. aar sob theke jeta bhalo hoyeche seta holo thik somoy e golpo ta sesh korechis. er theke golpo ta boro hoye gele hi tule bolte hoto “hori he dinabandhu.. tumi amar-o….”

    chaliye ja 🙂

  4. Khub chena golpo kintoo bhalo. Chotogolper sadharon niyom mene lekha hoy ni onek ta kothopkothoner aakar-e lekha. Aar ektoo aanto saanto hole aar-o bhalo hoto. Kintoo besh bhalo……..

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s