রাখী

রিটায়ারমেন্টের পর জমা টাকা দিয়ে টালিগঞ্জের ভিতরে একটা বাড়ি কিনে ফেললেন সৃজনবাবু । বাড়িটা বড় রাস্তা থেকে অনেকটা ভিতরে – বেশ নিরিবিলি । দোতলা বাড়ি – বসার ঘর, খাবার ঘর, রান্নাঘর ছাড়া চারটি শোবার ঘর এবং দুটি টয়লেট । তিনজনের পরিবারের পক্ষে এই বাড়ি যথেষ্ট । পরিবারের বাকি দুইজন সদস্যা হলেন সৃজনবাবুর স্ত্রী প্রমিলাদেবী ও তাদের মেয়ে রাখী । রাখী কলেজে পড়ে – B.Sc. র দ্বিতীয় বর্ষে । যদিও এই পরিবারে আরো একজন সদস্য আছে – ওনাদের ছেলে রক্তিম । সে থাকে বিদেশে । রক্তিম বিবাহিত । বিয়েতে সৃজনবাবু ও প্রমিলাদেবী দুজনের ভীষণ আপত্তি ছিল বলে সে বাবা-মার সাথে সম্পর্ক রাখে না । সৃজনবাবু এই মানসিক ধাক্কা সামলে উঠতে পারলেও প্রমিলাদেবী তা পারেননি । এখনও তিনি ছেলের জন্য লুকিয়ে কান্নাকাটি করেন । রাখী তার দাদাকে খুব ভালোবাসতো । সে চেষ্টা করেছিল দাদার সাথে সম্পর্ক রাখতে । ই-মেল, চিঠি ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা সে করেছিল । কিন্তু, দাদার উত্তর সে কোনভাবেই পায় নি ।

নতুন বাড়িটা এদের তিনজনকেই এই দুঃখ থেকে সাময়িক অব্যহতি দিয়েছে । প্রমিলাদেবী লেগে পড়েন ঘর সাজানো নিয়ে । রাখীও তাকে সাহায্য করে । দুজনে সপ্তাহের শেষে বেরিয়ে বিভিন্ন সাজানোর জিনিস কিনে আনেন । সৃজনবাবু মেতে উঠেছেন গার্ডেনিং নিয়ে । নার্সারী থেকে অনেকগুলো ফুলের গাছ কিনে এনে ছাতে সুন্দর বাগান তৈরী করেছেন । গাছগুলোর পরিচর্যা ও বই পড়ে তার দিন ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছে ।

চার-পাঁচ মাস নিরুপদ্রবে কেটে যাবার পর হঠাৎ এক সমস্যার উদয় হয় । আপাতদৃষ্টিতে সেটা গুরুতর না হলেও প্রমিলাদেবী জানতে পেয়ে বেশ ভয় পেয়ে যান । ওদের বাড়ি থেকে বাস রাস্তা মোটামুটি ১০ মিনিটের হাঁটা পথ । মাঝে একটা বস্তি পড়ে । বস্তির পাশে একটা চায়ের দোকান আছে । রাখী কলেজে যাবার জন্য ঐ রাস্তা দিয়ে গিয়ে বাস ধরে । সম্প্রতি ঐ চায়ের দোকানে একজন লোককে সে রোজ লক্ষ্য করে । লোকটি নিস্পলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে । যদিও লোকটি তাকে কোনো ইশারা করে না বা পিছু নেয় না – তবু ব্যাপারটা তাকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেয় । ক্রমে সেটা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যায় । একদিন সে তার মাকে ঘটনাটা জানায় । সুন্দরী যুবতী মেয়ে, নতুন জায়গা, বস্তির কাছে একরম হচ্ছে – সব মিলে প্রমিলাদেবী ভয় পান । সৃজনবাবুকে জানালে তিনি ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দেন । তার মতে মেয়ে সুন্দরী হলে ছেলেরা তো তাকাবেই । প্রমিলাদেবী শান্তি পান না । মেয়েকে সাবধানে যাতায়াত করতে বলেন । বাড়ির কাজের মাসীর কাছে তিনি এক ভয়ানক খবর পান । লোকটি এক জেল ফেরত আসামী । তিনজনকে খুন করে জেলে গিয়েছিল । কিছুদিন আগে ছাড়া পেয়েছে । বস্তির কাছেই একটা বাড়িতে থাকে । এই ঘটনা জানার পর থেকে রাখী রাস্তায় চলাফেরার সময় সজাগ থাকে । সময়ের সাথে সাথে ব্যাপারটা সহ্য হয়ে যায় । রাখীর আত্মবিশ্বাসও ধীরে ধীরে বাড়ে । লোকটি আর সেইরকমভাবে তাকিয়ে থাকে না । তবে সে যে রাখীকে লক্ষ্য করে এটা রাখী বুঝতে পারে ।

ইতিমধ্যে রাখীর জীবনে একজনের আবির্ভাব হয়েছে । তার নাম সুধীর । সে তার কলেজের সহপাঠি । রাখীর তাকে অনেকদিন থেকেই ভালো লাগতো । কিন্তু অনুভবটা যে দুই তরফ থেকেই আছে সেটা সুধীর তাকে প্রপোজ করার পর জানতে পারে । এর পর থেকে তাদের সম্পর্ক গভীর হয় ।

আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সুধীরের জন্মদিন উপলক্ষে সুধীরের বাড়িতে পার্টির আয়োজন হয় । রাখী বিশেষভাবে নিমন্ত্রিত হয় । তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে সুধীরের পরিবারের সঙ্গে । ভীষণ খুশি রাখী একটি সুন্দর সালোয়ার কামিজ পরে পার্টিতে যায় । সবার সঙ্গে আলাপ ও পার্টি উপভোগ করতে গিয়ে অনেক দেরী হয় । বাড়ি ফেরার সময় বন্ধুরা তাকে ট্যাক্সিতে বড় রাস্তা পর্যন্ত ছেড়ে দেয় । রাত সাড়ে ১১ টার নির্জন রাস্তা দিয়ে সে বাড়ির উদেশ্যে হাঁটতে থাকে । বাঁক পেরোতেই একটু আলো আঁধারীর মধ্যে কয়েকজনকে সে দেখতে পায় কয়েকটা মোটর বাইকের কাছে । একটু এগোতেই সে বুঝতে পারে তারা তিনজন এবং মদ্যপ । এদের কাউকে সে কখনো দেখে নি । একজন তার পথ রোধ করে দাড়ায় –
“কোথায় যাচ্ছ ডার্লিং? কিছুক্ষণ আমাদের সঙ্গে কাটিয়ে যাও ।”
লোকটির মুখে মদের তীব্র গন্ধ ও ঠোঁটে অশালীন ভাব । রাখী সাহস সঞ্চার করে বলে – “রাস্তা ছাড়ুন । আমাকে যেতে দিন ।”
“ছেড়ে তো দেবই । আমাদেরকে খুশি করলেই ছেড়ে দেব ।”
ইতিমধ্যে বাকি দুজন তার পিছনে এসে দাড়ায় । রাখী বুঝতে পারে অবস্থা ভালো নয় । সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে । একজন তার হাতের ব্যাগ কেড়ে নেয় । বাকি দুজন তাকে ধরে ফেলে ।
“হেল্প!” – ধস্তাধস্তির মধ্যে যথাসম্ভব গলার জোর দিয়ে সে চীৎকার করে ওঠে ।
এক আগুন্তুক ছুটে আসে সেই চিৎকার শুনে – “আই । ওখানে কি হচ্ছে । মেয়েটাকে ছেড়ে দে ।”
আগুন্তুকের হুঙ্কারে সবাই তার দিকে ফিরে তাকায় । রাখী চিনতে পারে লোকটিকে । চায়ের দোকানে দাড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করা লোকটি । চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে ।
“তুই কে রে ! এখান থেকে সটকে পড় – না হলে ছবি হয়ে যাবি ।” – গুন্ডাদের একজন বলে ওঠে ।
লোকটি ওদের দিকে এগোতে থাকে । গুন্ডাদের একজন তার দিকে তেড়ে যায় । লোকটির ডান হাতের এক প্রকান্ড ঘুষি খেয়ে গুন্ডাটি রাস্তায় আছড়ে পড়ে । আরেকজন দৌড়ে আসে, কিন্তু তার হাল হয় একই । শেষজন পকেট থেকে একটা ছুরি বার করে লোকটির দিকে এগিয়ে যায় । কাছে আসতেই সে এলোপাথাড়ি ছুরি চালাতে থাকে । একটি চুরির আঘাতে লোকটির বাঁ হাত কেটে যায় । লোকটি গুন্ডাটির তলপেটে একটি জোরালো লাথি মারে । গুন্ডাটি পড়ে যায় । অবস্থা ভালো নয় বুঝে তিনজন গুন্ডাই ওখান থেকে বাইক নিয়ে পালায় । সাথে নিয়ে যায় রাখীর ব্যাগটাও ।

গভীর ক্ষতটা হাতে চাপা দিয়ে লোকটি রাখীর উদেশ্যে বলে – “আপনার এত রাতে একা বাড়ি ফেরা উচিত হয় নি । এখন যান – আর কোনো বিপদ হবে না ।”
আকস্মিক এতগুলো ঘটনা রাখীকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল । সম্বিত ফিরে পেতেই তার দৃষ্টি পড়ল লোকটির বাঁ হাতের দিকে । রক্তে জামাটা ভিজে গেছে । সে লোকটির কাছে গিয়ে বলে – “এতো ভীষণ রক্ত পড়ছে । কাটা জায়গাটায় একটা কাপড় বাঁধা দরকার ।”
লোকটি বাধা দিয়ে বলে – “কিছু হবে না । আপনি বাড়ি যান ।”
রাখী তার কথা না শুনে তার ওড়না দিয়ে হাতের ক্ষত জায়গাটা ভালো করে বেঁধে দিয়ে বলে – “অনেকটা রক্ত বেরিয়েছে । একটা ডাক্তার দেখানো দরকার । চলুন আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই । কাছেই একজন ডাক্তারকে আমি চিনি । তাকে ডেকে আনছি ।”
লোকটি আপত্তি করলেও রাখী শোনে না । লোকটিকে বাড়ি পৌঁছে দেয় । লোকটিকে একটি তক্তপোষের উপর শুইয়ে দেয় সে । বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে তার নজর পড়ে দরজার উপরে লাগানো একটি ছবির উপর । সে চমকে ওঠে । এতো তারই ছবি । কিন্তু বেশ পুরনো । ছবিটি ভালো করে লক্ষ্য করে সে বুঝতে পারে ছবিটি তার নয় । কিন্তু ছবিটির মেয়েটির সাথে তার চেহারার অসম্ভব মিল । এই জন্যেই লোকটি তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত । মেয়েটি সম্বন্ধে জানার ঔৎসুক্য বেড়ে যায় । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তার ডাকাটা অত্যন্ত জরুরী । সে কাছেই একজন ডাক্তারের বাড়ি ছুটে যায় । কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর বয়স্ক ডাক্তারবাবু বেরিয়ে আসেন । রাখী তাকে সব জানালে তিনি ব্যাগ নিয়ে লোকটির বাড়ি আসেন ।
ডাক্তারবাবু লোকটিকে চিনতে পারেন – “কীরে প্রতাপ । কী হয়েছে? হাতটা দেখা দেখি ।”
প্রতাপ – “সেই রকম কিছু হয় নি ডাক্তার কাকা । ধস্তাধস্তিতে কেটে গেছে ।”
ডাক্তারবাবু এবার রাখীর দিকে তাকিয়ে বলেন – “মা, তুমি এখন বাড়ি যাও । তোমার বাবা মা চিন্তা করছেন নিশ্চয়ই । আমি ওর কাছে আছি, চিন্তা কোরো না ।”

রাখী বাড়ী ফিরে আসে । মায়ের কাছে ভীষণ বকুনি খায় দেরী করে ফেরার জন্য । ঘটনার জেরে রাতের ঘুম বিক্ষিপ্ত হয় । পরদিন সকালে উঠতে তার দেরী হয় । প্রবল বৃষ্টির জন্য সে বাড়ী থেকে বেরোতে পারে না । সারা সকাল ধরে সে ছবির মেয়েটির কথা ভাবতে থাকে । যমজ ছাড়া দুজন মানুষের এতটা মুখের মিল হতে পারে – এ অভাবনীয় । বিকেলে বৃষ্টি থামলে সে বেরিয়ে পরে প্রতাপের বাড়ীর উদেশ্যে । প্রতাপের বাড়ী বন্ধ দেখে ডাক্তারের কাছে যায় প্রতাপের খোঁজ নেবার জন্য । ডাক্তারবাবু চেম্বারে একা বসেছিলেন । রাখী প্রতাপ সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন – “প্রতাপ এখন ভালো আছে । কাল রাতে কিছু ওষুধ আর ড্রেসিং করে দিয়েছিলুম । সকালে গিয়ে দেখি ভালই আছে । তবে ক্ষত সারতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে । তবে মা – তোমাকে একটা কথা বলি । বেশি রাত করে একা বাড়ী ফিরো না । রাস্তাঘাট ভালো নয় । কাল কী কান্ডটাই না ঘটতে চলেছিল ।”
রাখী মাথা নত করে বলে – “কাল প্রতাপবাবুর জন্য ভীষণ বেঁচে গেছি । আসলে আমি এখানে নতুন । তাই এই রকম যে হতে পারে ভাবতে পারি নি ।”
কিছুক্ষণ থেমে সে বলে – “আপনি প্রতাপবাবুকে আগে থেকে চেনেন ?”
ডাক্তার – “না । ওর সঙ্গে সেইরকম আলাপ নেই । ওর বাবার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় ছিল । সেই সুত্রে ওকে চিনি ।”
রাখী – “ওদের বাড়ীর দরজার উপরে একজন মহিলার ছবি আছে । আপনি দেখেছেন ?”
ডাক্তার – “না দেখি নি । প্রতাপের মায়ের ছবি হবে । দু বছর আগে উনি মারা গেছেন । আর বাবা গেল গত বছর । ছেলেটার আর কেউ নেই ।”
রাখী – “না । বোধয় মায়ের ছবি নয় । একজন ইয়াং মেয়ের ছবি ।”
ডাক্তার – “তাহলে ওটা প্রতাপের বোনের ছবি হবে ।”
রাখী – “ওর বোনের কি বিয়ে হয়ে গেছে ?”
ডাক্তার – “ওর বোন বেঁচে নেই মা । সে এক দুঃখজনক গল্প । প্রতাপের বাবার কাছে শোনা । ওরা আগে কালীঘাটে থাকত । প্রতাপ তখন কলেজে পড়ে । ওর বোন – কী যেন নাম মেয়েটার – সাথী, তখন স্কুলে পড়তো । একদিন কিছু গুন্ডা সাথীকে তুলে নিয়ে গিয়ে rape করে । সামাজিক কলঙ্কের কথা ভেবে একটা চিঠিতে সব জানিয়ে সে আত্মহত্যা করে । প্রতাপরা পুলিশের সাহায্য নেয় । গুন্ডাগুলো ধরাও পরে । কিন্তু টাকার জোরে প্রমান লোপাট করে ওরা ছাড়া পেয়ে যায় । এই অন্যায় প্রতাপ মেনে নিতে পারে না । একটা বন্দুক যোগাড় করে অভিযুক্ত তিনজনকেই গুলি মেরে খুন করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে । বিচারে ওর দশ বছরের জেল হয়ে যায় । এইতো কিছুদিন আগে ছাড়া পেয়ে এখানে ফিরে এসেছে । জানো মা – পড়াশুনায় ভালো ছিল । শুনেছি হাইয়ার সেকেন্ডারিতে ষ্টার পেয়েছিল । কিন্তু ভাগ্যের খেলা দেখ – এখন একটা কারখানায় মজুরের কাজ করে । জেল ফেরত আসামীকে কে আর ভালো কাজ দেবে বল ।”

রাখীর চোখে জল চলে আসে । বাড়ী ফিরে সে প্রতাপের কথা ভাবতে থাকে । কীভাবে একটা ঘটনা একটা সাজানো সংসারকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে । কী ভয়াবহ পরিনাম সাথীর । একজন যুবতী মেয়ে – জীবনে হয়তো কত লক্ষ্য ছিল তার – ভালো কেরিয়ার, ভালো সংসার । নিমেষের মধ্যে সব লন্ডভন্ড করে দিল কিছু যৌনপিশাচ । সামাজিক গ্লানির হাত থেকে বাঁচতে তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো । আদালতের বঞ্চনা একজন উজ্জ্বল ছাত্রকে হাতিয়ার তুলে নিতে বাধ্য করলো । জীবনের দশটা বছর সে হারিয়ে ফেলল জেলের চার দেয়ালের মধ্যে । দুই সন্তানের শোচনীয় পরিনাম কী ভয়ঙ্কর ভাবেই না আঘাত করেছিল তাদের বাবা-মা কে । হতাশা ও কান্নাকে সঙ্গী করেই কাটাতে হয়েছে তাদের শেষ জীবনটাকে ।

সে নিজের মনেই প্রশ্ন করে – প্রতাপ কি সত্যিই অপরাধী ? আইনের ভাষা যাই বলুক না কেন, নৈতিক দিক থেকে বিচার করলে সে কি দোষী ? মানুষের প্রাণ নেওয়া তো সবসময় অপরাধযোগ্য নয় । যুদ্ধে যখন একজন সৈনিক বিপক্ষের প্রাণ সংহার করে তাকে তো অপরাধী বলা হয় না । যুদ্ধ না হয় এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মানুষ মারবার অস্ত্র । একজন terrorist কে হত্যা করলেও কেউ দোষী হয় না – কারণ terrorist মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে । একটা সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে । Isn’t rape a social terrorism and rapist a social terrorist ? একজন rapist এর কাছে rape একটি সাময়িক যৌন উত্তেজনা – কিন্তু ধর্ষিতার সত্ত্বাকে আঘাত করে – আহত করে তার আত্মমর্যাদাকে । ঘটনার আকস্মিকতা, ভয়াবহতা বহন করে যেতে হয় সারাজীবন ধরে । লজ্জা, গ্লানির কথা ভেবে সাথীর মতো অনেক মেয়েই বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ । দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে প্রবীণ বৃদ্ধারাও এই লালসার শিকার । এই নৃশংসতা হয়ে চলেছে ঘরে, রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে, যানবাহনে । কোন স্থানে মহিলারা নিরাপদ ? Rape কী মহিলাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে না ? পুরুষ সমাজকেও ভীত করে না ? সামাজিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে না । তাহলে rapist ও terrorist এর মধ্যে তফাত কোথায় ? terrorist হত্যা যদি অপরাধের না হয় তা হলে প্রতাপ কোন বিচারে দোষী ।

মন খারাপ নিয়ে কেটে যায় দিনটি । পরদিন খুব সকালে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় । সে দিন রাখী পূর্নিমা । দাদার ও পুরানো রাখীর দিনগুলোর কথা তার মনে পরে যায় । সে দেরাজ থেকে একটা রাখী বার করে । রাখীটা সে এইবছর দাদাকে পাঠাবে বলে কিনেছে । বিগত কয়েক বছর সে রাখী পার্সেল করে দাদাকে পাঠিয়েছিল । কিন্তু সে কোনো উত্তরই পায় নি । এইবছর হয়তো একই ফল হবে । দাদা কী তার নিজের বোনকে একটা চিঠি বা ই-মেল করতে পারে না । কথাগুলি ভেবে মুষড়ে পরে সে । আয়নার সামনে নিজেকে দেখে মনটাকে শক্ত করে । সে এক সিদ্ধান্ত নেয় ।

তাড়াহুড়ো করে সে স্নান করে ফেলে । পাশের দোকানে গিয়ে মিষ্টি কেনে । একটা ট্রেতে রাখীটা ও মিষ্টি সুন্দরভাবে সাজিয়ে সে উপস্থিত হয় প্রতাপের বাড়ী । দরজায় ধাক্কা দিতে প্রতাপ বেরিয়ে আসে । তার বা হাতটা ব্যাণ্ডেজ করে ঝোলানো । রাখীকে দেখে সে অবাক হয় । তাকে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে যায় । রাখী ট্রে থেকে রাখীটা প্রতাপের ডান হাতে পরাতে গিয়ে বলে – “সেদিন আপনাকে আমি thanks জানাতে পারি নি । তবে আমার মনে হয় thanks এর থেকে এটাই আপনার যথার্থ প্রাপ্য । আর আপনি হয়তো আমার নাম জানেন না । আমার নাম রাখী, তবে আপনি আমাকে সাথী বলেও ডাকতে পারেন ।”
প্রতাপের দিকে তাকিয়ে সে দেখে প্রতাপের দুচোখ জলে ভরে গেছে ।

Advertisements

7 thoughts on “রাখী

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s