পূজা পরিক্রমা

মন্তব্য: উপন্যাসটির প্রথম প্রকাশ কোলাজ পূজাবার্ষিকী ১৪২১ (সম্পাদিত সংস্করণ)।

পাঠকদের সুবিধার জন্য অধ্যায়গুলির লিঙ্ক নিচে দেওয়া হল।

অধ্যায়                           ১০   ১১   ১২   কোলাজ সংস্করণ

1মহাসপ্তমীর রাত। সপ্তমীর পূজা চলছে পুরোদমে। ঢাকিরা মহানন্দে ঢাক পিটিয়ে চলেছে। কাঁসরের শব্দের সঙ্গে ঢাকের আওয়াজ দুর্গাপূজার মাদকতা এনে দিচ্ছে বাতাসে। বাঙালীর অতি প্রিয় এই ধ্বনি। কিন্তু এই সুমধুর শব্দ যেন কর্কশ লাগছে অনির্বাণের। রাস্তায় মানুষের ঢল বের হলেও সে বাড়ীতে অন্ধকার করে একা বসে আছে। তার মাথা বন বন করছে রাগে। সময়ের সাথে সাথে বেড়ে চলেছে রাগের তীব্রতা। হাত দিয়ে দু কানটা যথাসম্ভব চেপে ধরল সে। কী নিষ্ঠুর এই শব্দটা তার কাছে। আগের বছর সে কলকাতার বাইরে ছিল, তাই অসুবিধা হয় নি। কিন্তু এবার বাধ্যতামূলক থাকতে হয়েছে অফিসের কাজে।

পড়তে থাকুন

ইচ্ছাপূরণ

–    এক –

সুমিত ও কার্তিক স্কুল থেকে বাড়ী ফিরছে। আজ ওদের স্কুল হয় নি। একজন বয়স্ক মাস্টারমশাই কাল রাতে মারা গেছেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রেয়ারের পর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাড়াতাড়ি ছুটি হলেও ওরা একটু খেলাধুলা করে নিয়েছে বাকী বন্ধুদের সাথে। মধ্যাহ্নের সূর্য প্রখর হবার সঙ্গে ওরা খেলা গুটিয়ে এখন বাড়ীর অভিমুখে রওনা হয়েছে।

ওরা দুজনেই কসবার কাছে এক বস্তিতে থাকে। সুমিত থাকে তার মায়ের সাথে। ওর বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। ওর মা বিভিন্ন বাড়ীতে বাসন-মাজা, ঘর ঝাঁট-মোছার কাজ করে সংসার চালান। কার্তিকের অবস্থা সামান্য ভাল। ওর বাবা নিউজপেপার, ম্যাগাজিন বিক্রি করে সংসার চালান। এই দুই দশ বছরের খুদে সদস্যরও সংসারে কিছু অবদান আছে। ভোরবেলা উঠে ওরা বস্তির আরও কয়েকজন বাচ্চার সাথে কাগজ কুড়ুনির কাজ করে। প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যাগ, আস্ত শিশি-বোতল ইত্যাদি সংগ্রহ করে বাড়ী নিয়ে আসে। সেগুলো ওদের বাবা-মা বিক্রি করে দেন। এই সামান্য কটা টাকায় কিছুই হয় না। তবু ওদের কাছে এটা অনেকটাই খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশুনার তেমন ক্ষতি হয় না বলে ওদের বাবা মা এতে আপত্তি করে না।

পড়তে থাকুন